for Add
মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল : ১১ ডিসেম্বর ২০২১, শনিবার, ১৫:১৬:২০

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের বড় প্রস্তুতি হবে দেশের মাটিতে আয়োজিত হওয়া বিপিএল। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেট নিয়ে আবারো তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মুজিববর্ষ হওয়ায় এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএল আয়োজনের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির তালিকা প্রকাশ করা সময়ের ব্যাপার এখন। কোনো কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি পেতে একাধিক প্রতিষ্ঠান আবেদন করলেও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হবে।
বিসিবির কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া কোম্পানিগুলো দল গোছানোর প্রাথমিক কাজও শুরু করেছে। বেক্সিমকো না থাকায় খালেদ মাহমুদ সুজনকে কোচ হিসেবে পেতে চেষ্টা করছে ফরচুন বরিশাল। আইকন ক্রিকেটার হিসেবে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কথা বলেছে তারা। যদিও ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বা কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন এ ব্যাপারে কিছু বলেননি। করোনা কালের এই বিপিএলে সীমিত বাজেটে দল গড়ার পরামর্শ বিসিবির।
আর তাই সম্ভাব্য একটা বাজেটও ঠিক করা হয়েছে পাঁচ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি, খেলোয়াড়দের সম্মানী মিলে বিসিবিকে অগ্রিম দিতে হবে পাঁচ কোটি টাকা। ফ্র্যাঞ্চাইজি হওয়ার আবেদনের সঙ্গে ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হয়েছে কোম্পানিগুলোকে। নিয়মিত বিপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ছিল দুই কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে সেটা এক কোটি টাকা করা হয়েছিল। ২০২২ সালের বঙ্গবন্ধু বিপিএলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি এক কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশি ক্রিকেটারদের সম্মানী ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার আর সর্বনিম্ন পাঁচ লাখ টাকা। বিদেশিদের ক্ষেত্রে সেটা সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার আর সর্বনিম্ন ২০ হাজার ডলার।
যার মধ্যে দেশি ক্রিকেটারদের পাঁচটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। ‘এ’ প্লাস ক্যাটাগরি ৫০ লাখ, ‘এ’ ক্যাটাগরি ২৫ লাখ, ‘বি’ ক্যাটাগরি ১৮ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরি ৮ লাখ আর ‘ই’ ক্যাটাগরি ৫ লাখ টাকা। ‘এ’ প্লাস এবং ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে প্রতিটি দল একজন করে, ‘বি’ এবং ‘সি’ ক্যাটাগরি থেকে দু’জন করে, ‘ডি’ থেকে তিনজন এবং ‘ই’ থেকে পাঁচজন খেলোয়াড় নিতে পারবে। বিদেশিদের চার ক্যাটাগরি থেকে চারজন খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ রেখেছে। প্লেয়ার্স ড্রাফটের বাইরে থেকেও দু’জন বিদেশি ক্রিকেটার নেওয়া যাবে। বিদেশি ‘এ’ প্লাস ক্যাটাগরিতে ৭৫ হাজার, ‘এ’ ক্যাটাগরি ৫০ হাজার, ‘বি’ ক্যাটাগরি ৪০ হাজার, ‘সি’ ক্যাটাগরি ৩০ হাজার, ‘ডি’ ক্যাটাগরি ২০ হাজার ডলার সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রধান কোচের সম্মানী ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলেও সহকারী কোচদের দেওয়া হবে আড়াই লাখ টাকা। ২০২২ সালের বিপিএলের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে তিনটি, ঢাকার মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। ঢাকায় পাঁচতারকা মানের হোটেল ঠিক করা হয়েছে সোনারগাঁও, ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ওয়েস্টিন, লা মেরিডিয়েন, র্যাডিসন ব্ল, আমারি ঢাকা ও রেনেইসাস। চট্টগ্রামে র্যাডিসন ব্ল বে ভিউ, পেনিনসুলা ও আগ্রাবাদ হোটেল। সিলেটে রোজভিউ, নাজিমগর রিসোর্ট, নিরভানা ইন, হোটেল স্টার প্যাসিফিক ও গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেল। করোনাকালে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার জন্যই হোটেল ঠিক করে দেওয়া।
যদিও হোটেলের সম্পূর্ণ খরচ দলগুলোকেই বহন করতে হবে। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে যে ব্যয় নির্বাহ করেছে বিসিবি, সেদিক থেকে বিপিএলে বড় বাজেট নিয়েই নামতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। এত টাকা খরচ করলেও বিসিবির কাছ থেকে অর্থ প্রাপ্তির সুযোগ নেই প্রাইজমানি ছাড়া। রেভিনিউ শেয়ারের কোনো সুযোগ রাখেনি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। ছয় দলের বিপিএলে দুটি কোয়ালিফায়ার, এলিমিনেটর ও ফাইনাল মিলিয়ে ৩৪টি ম্যাচ হবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে দর্শক নিয়েই হবে বঙ্গবন্ধু বিপিএল।
এবারের বিপিএলে দেশের ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক রাখা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। বিসিবি সভাপতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আটটি প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাঞ্চাইজি হতে দরপত্র জমা দিয়েছে। অচিরেই দলগুলো চূড়ান্ত হবে। তবে ইতোমধ্যে বিপিএলের পূর্ণাঙ্গ তথ্যাবলী, নিয়ম, খসড়া সূচি, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকসহ সব তথ্য প্রকাশ করেছে বিসিবি। সংস্থাটির নিজস্ব ওয়েবসাইট টাইগার ক্রিকেট ডট কমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ম্যাচ হবে ৩৪টি। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো। আগামী ২১ জানুয়ারি শুরু হবে বিপিএল, ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি।
টুর্নামেন্টের শেষ চারে কোয়ালিফায়ার, এলিমিনেটর ও ফাইনাল ম্যাচে থাকছে রিজার্ভ ডে। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম পর্বের পর চট্টগ্রামে যাবে দলগুলো। চট্টগ্রাম পর্বের পর ফিরবে ঢাকায়। পরে ঢাকা থেকে সিলেটে যাবে পুরো বহর।
সিলেট পর্ব শেষে ঢাকায় এসে সমাপ্ত হবে অষ্টম আসর। এই আসরে প্রতিটি দলের খরচ ধরা হয়েছে ৫ কোটি টাকা। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হবে বিসিবির মাধ্যমে। এক বছরের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজ ফি ১৬ কোটি টাকা। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ৪ কোটি টাকা। ড্রাফট থেকে সর্বোচ্চ ১৪ জন দেশীয় ক্রিকেটার নিতে পারবে দলগুলো, সর্বনিম্ন ১০ জন। বিদেশিদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮ জন, সর্বনিম্ন ৩ জন। তবে একাদশে অবশ্যই ৩ জন বিদেশি ক্রিকেটার থাকতে হবে। দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকও নির্ধারিত করে দিয়েছে বিসিবি।
বিপিএলে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক
দেশীয় ক্রিকেটার
ক্যাটাগরি পারিশ্রমিক সংখ্যা
এ-প্লাস ৫০ লাখ টাকা ১ জন
এ ২৫ লাখ টাকা ১ জন
বি ১৮ লাখ টাকা ২ জন
সি ১২ লাখ টাকা ২ জন
ডি ৮ লাখ টাকা ৩ জন
ই ৫ লাখ টাকা ৫ জন
বিদেশি ক্রিকেটার
ক্যাটাগরি পারিশ্রমিক টাকায়
এ-প্লাস (১ জন) ৭৫ হাজার ডলার ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা
এ (১ জন) ৫০ হাজার ডলার ৪৩ লাখ টাকা
বি (১ জন) ৪০ হাজার ডলার ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা
সি (১ জন) ৩০ হাজার ডলার ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা
ডি (১ জন) ২০ হাজার ডলার ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা
(১ ডলার ৮৬ টা কা ধরে)
For add
For add
For add
For add
for Add