for Add
নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৩:৫৫:৪৪

জয়ের জন্য শেষ দিনের শেষ ২৩ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩ উইকেট। সুযোগও এসেছিল একাধিকবার। কিন্তু দুটি রানআউটের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। এরপর সহজ ক্যাচও ফেলেছেন হাসান মাহমুদ। তাতেই জয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে আসতে হয়েছে টাইগারদের। শেষ সেশনে অসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করে ম্যাচ ড্র করেছে আফগানিস্তান।
আবু ধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পেরেছে আফগানরা। দুই ইনিংসে বাংলাদেশ যথাক্রমে ৩৪৬ ও ৭ উইকেটে ৩৭২ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রান করা আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াই করে ৩৪৬ রান পর্যন্ত পৌঁছায়।
বাংলাদেশ-আফগানিস্তান দ্বিপাক্ষিক টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচ ড্র হলো। আগের দুই টেস্টের মধ্যে একটিতে বাংলাদেশ এবং অন্যটিতে জয় পেয়েছিল আফগানিস্তান।
চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান করেছিল আফগানিস্তান। জয়ের জন্য শেষ দিনে তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ৩৪৭ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল বাকি ৭ উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করা।
পঞ্চম দিন শুরুতে ক্রিজে ছিলেন সেদিকুল্লাহ আতাল ও হাসমতুল্লাহ শাহিদি। আগের দিনের ৩৫ রানের সঙ্গে আর ১ রান যোগ করতেই বিপত্তি ঘটে শাহিদির। বাংলাদেশের ফিল্ডারের থ্রোয়ে পায়ে আঘাত পেয়ে আহত অবসর নেন তিনি। এরপর আতালের সঙ্গে জুটি বাঁধেন ইকরাম আলিখিল। বাংলাদেশের বোলারদের সামলে ১৪৭ বলের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন দুজন।
দলীয় ২০২ রানে ইকরামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার এবাদত হোসেন। ইকরামের বিদায়ের পর আতালের সঙ্গী হন ইসমাত আলম। সতর্ক ব্যাটিংয়ে ১২৩ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন তারা। এই পথে টেস্ট ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় ম্যাচেই প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান আতাল। আফগানিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটারও হলেন তিনি।
আতালের শতকের পরপরই সাজঘরে ফেরেন ইসমাত। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে প্রথম স্লিপে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৬০ বল খেলে মাত্র ৪ রান করেন তিনি।
ইসমাতের বিদায়ের পর আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন আহত অবসর নেওয়া শাহিদি। আতালের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ২৬ রানের জুটি গড়ার পর আরও ২২ রান যোগ করেন দুজন। শেষ পর্যন্ত মিরাজের বলে উইকেট ছেড়ে খেলতে গিয়ে মিড অনে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দেন শাহিদি। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৯ বলে ৩৬ রান করেন আফগান অধিনায়ক।
শাহিদির বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আতালও। তাইজুল ইসলামের বলে শর্ট লেগে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৩২ বলে ১১১ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ১১৯তম ওভারে ২৮১ রানে সপ্তম উইকেট হারায় আফগানিস্তান। তখনো দিনের খেলা বাকি ছিল ২১ ওভার।
এরপরই জয়ের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে ওঠে বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ দিকে এসে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করে টাইগাররা। ১২২তম ওভারের প্রথম দুই বলে রানআউটের দুটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। তাতে জীবন ফিরে পান ইয়ামিন আহমাদজাই ও কাইস আহমাদ।
১৩১তম ওভারে মিরাজের বলে ক্যাচ তুলে দেন কাইস। ডিপ মিড উইকেটে সহজ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি হাসান মাহমুদ। সেই জীবন কাজে লাগিয়ে দলের প্রতিরোধ ধরে রাখেন কাইস।
এরপর ১৩৬ ওভার পর্যন্ত উইকেটে টিকে থাকেন কাইস ও আহমাদজাই। পরের ওভারে মিরাজের শেষ বলে শর্ট লেগে মোমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আহমাদজাই। ৪টি চারে ৮৫ বলে ১৯ রান করেন তিনি।
নবম উইকেটে কাইস ও জিয়া উর রহমান দিনের শেষ তিন ওভার কাটিয়ে দেন। নির্ধারিত সময়ের পর আরও পাঁচ মিনিট ও দুই ওভার খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়াররা। অতিরিক্ত ওই দুই ওভারেও আফগানিস্তানের শেষ উইকেটটি তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত নাটকীয় ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে আফগানরা।
নয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন কাইস আহমাদ। অন্য প্রান্তে ১২ বল খেলে কোনো রান না করে অপরাজিত থাকেন জিয়া উর রহমান।
বাংলাদেশের হয়ে এবাদত হোসেন ৫০ রানে এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ৭৩ রানে ৩টি করে উইকেট নেন। এ ছাড়া হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম একটি করে উইকেট শিকার করেন।
দুই ইনিংসে ব্যাট হাতে ৫৩ ও ১০২ রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসালে অবদান রেখে ম্যাচসেরা হয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস।
বাংলাদেশ, প্রথম ইনিংস: ৩৪৬/১০; ৯২.৩ ওভার।
আফগানিস্তান, প্রথম ইনিংস: ২৪০/১০; ৮৯.১ ওভার।
বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ইনিংস: ৩৭২/৭ ডি; ১০৫.২ ওভার (লিটন দাস ১০২, নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২, মুশফিকুর রহিম ৮১, মেহেদী হাসান মিরাজ ৫২*, সালিম ২/৬৯)।
আফগানিস্তান, দ্বিতীয় ইনিংস: ৩৪৬/৮; ১৪২ ওভার (সেদিকুল্লাহ আতাল ১১১, রহমত ৫১, কাইস আহমাদ ৪৯*, এবাদত হোসেন ৩/৫০, মেহেদী হাসান মিরাজ ৩/৭৩)।
ফল: ম্যাচ ড্র।
ম্যাচসেরা: লিটন দাস (বাংলাদেশ)।
For add
For add
For add
For add
for Add