for Add
নিজস্ব প্রতিবেদক : ২১ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার, ২৩:৩৮:৩৮

ভারতের ফাস্ট ব্রেক সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ, ভালো খেলার প্রত্যাশা কোচের
শক্তির বিচারে ভারত ও বাংলাদেশের ব্যবধানটা লিগ পর্বেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। ঢাকায় চলমান বেগম খালেদা জিয়া চার জাতি নারী আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে বাংলাদেশকে ৪৭-১৩ গোলে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে ভারত। এবার শিরোপার লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। লিগ পর্বে ৩৪ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর ফাইনালে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। লিগ পর্বের দুঃসহ স্মৃতি পেছনে ফেলে শিরোপার লড়াইয়ে নতুন করে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে চায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে ভারতের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল উপহার দেওয়াই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
ভারতের শক্তিমত্তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকায় ফাইনালে প্রতিপক্ষের গতিময় আক্রমণ সামলানো, দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সুযোগ সীমিত রাখা এবং রক্ষণভাগকে আরও সুসংগঠিত করায় গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।
ফাইনালের প্রস্তুতিতে বুধবার অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। সেখানে ভারতের দ্রুত পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করা এবং বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কৌশল নিয়ে কাজ করেছেন দলের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়া। অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে হলে তাদের ফাস্ট ব্রেকের সুযোগ কমিয়ে আনতে হবে।
কোচ বলেন, “ভারতের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে তাদের ফাস্ট ব্রেকের সুযোগ কম দিতে হবে। আমার চোখে, ভারত পুরো ৬০ মিনিট দ্রুত গতিতে খেলার মতো সক্ষম। লিগ ম্যাচে সেটা দেখেছি। ফাস্ট ব্রেকে যখন ওরা ছুটে আসছিল, আমরা ওদের আক্রমণ থামাতে পারিনি। তাই আমার কাছে মূল বিষয় হলো, ভারতকে যেন ফাস্ট ব্রেকে যাওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়।”
লিগ পর্বে ভারতের দ্রুতগতির আক্রমণের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। ফাইনালে সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের আরও সতর্ক থাকতে হবে। বলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর দ্রুত নিজেদের অবস্থান ঠিক করা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে সমন্বিতভাবে কাজ করাও হবে গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতকে টুর্নামেন্টের শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করলেও নিজেদের পারফরম্যান্সের উন্নতি নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশের কোচ। লিগ পর্বের তুলনায় ফাইনালে আরও ভালো খেলার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার প্রত্যাশা করছেন তিনি।
আনা আলোনসো ফ্রাগুয়া বলেন, “আমার বিশ্বাস আগের ম্যাচের চেয়ে আমরা আরও ভালো করতে পারব। আর আমরা ভারতের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারব বলেই মনে করি। আমার লক্ষ্যও তাই। আরও ভালো খেলতে হবে এবং নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে।”
কোচের এই প্রত্যাশা পূরণে রক্ষণ ও আক্রমণ—দুই বিভাগেই নিজেদের উন্নতি করতে হবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। ভারতের দ্রুত আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি নিজেদের আক্রমণে গোলের সুযোগ কাজে লাগানো এবং অপ্রয়োজনীয় ভুল কমিয়ে আনতে পারলে লড়াইয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
লিগ পর্বের বড় পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ফাইনালে ঘুরে দাঁড়াতে চান বাংলাদেশের খেলোয়াড় মাসুদা আক্তারও। তাঁর মতে, আগের ম্যাচের ভুলগুলো সংশোধন করে দলের সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ভালো ফল অর্জন করা সম্ভব।
মাসুদা বলেন, “আমরা যদি এই ভুলগুলো সংশোধন করতে পারি, অবশ্যই কালকে আমরা ভালো একটা ম্যাচ খেলতে পারব। কিন্তু আমরা সবাই যদি নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি, অবশ্যই একটা ভালো রেজাল্ট করব। লিগ ম্যাচে যেমন গোল খেয়েছি, তার চেয়ে যাতে এবার গোল কম হয়, সে লক্ষ্যও থাকবে।”
মাসুদার বক্তব্যে স্পষ্ট, ফাইনালে ভারতের গোল করার সুযোগ কমিয়ে আনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। লিগ পর্বে ৪৭ গোল হজমের পুনরাবৃত্তি এড়িয়ে রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করতে পারলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার সুযোগ বাড়বে।
একই প্রত্যাশা বাংলাদেশের আরেক খেলোয়াড় আছিয়া আক্তারেরও। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সমন্বয়কে প্রাধান্য দিয়ে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে চান বাংলাদেশের মেয়েরা। ভারতের আক্রমণাত্মক খেলার ধরন সম্পর্কে ধারণা থাকায় ফাইনালে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে চায় স্বাগতিক দল।
লিগ পর্বের ফলাফল বাংলাদেশের দুর্বলতাগুলো সামনে এনে দিয়েছে। তবে ফাইনাল নতুন করে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগও তৈরি করেছে। ভারতের গতিময় খেলা ও ধারাবাহিক আক্রমণের চাপ সামলাতে শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে বাংলাদেশকে। পাশাপাশি আক্রমণে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলে গোলের সুযোগ কাজে লাগানোও জরুরি।
শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশের সামনে প্রধানত দুটি চ্যালেঞ্জ—ভারতের গতিময় আক্রমণ সামলানো এবং লিগ পর্বের বড় পরাজয়ের পুনরাবৃত্তি এড়ানো। ৩৪ গোলের ব্যবধানে হারের পর ফাইনালে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই উপহার দিতে পারাই হবে স্বাগতিকদের জন্য উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
ফাইনালে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের দৃঢ়তা, বলের নিয়ন্ত্রণ, খেলোয়াড়দের পারস্পরিক সমন্বয় এবং প্রতিপক্ষের দ্রুত পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। লিগ পর্বের ভুলগুলো শুধরে বাংলাদেশের মেয়েরা কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, এখন সেই অপেক্ষাতেই হ্যান্ডবলপ্রেমীরা।
For add
For add
For add
For add
for Add