for Add
মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল : ১৭ নভেম্বর ২০২১, বুধবার, ২১:০৮:১৭

অবশেষে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনে বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি। এর আগে দীর্ঘ ২৫ বছর পর অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সুনজরে আসল পাকিস্তান। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ খেলেও ফাইনালে ওঠা হয়নি। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্রিকেট কুটনীতিতেও যে দেশটি বেশ এগিয়েছে সেটির প্রমাণ পাওয়া গেল। আইসিসির ইভেন্টে স্বাগতিক দেশ হিসেবে নাম ঘোষণার পর বোঝা গেল পাকিস্তান এখন আর আগের অবস্থানে নেই। সম্প্রতি আইসিসি ঘোষণা করেছে, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি অনুষ্ঠিত হবে! এই ঘোষণায় পাক ক্রিকেট বোর্ড দারুণ খুশি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে সর্বোচ্চ সংস্থাটির কিছুটা হলেও ভাবনায় যে পরিবর্তন এসেছে তাতেই খুশি দেশটি।
কিন্তু উল্টো অবস্থানে এখন বাংলাদেশ। কি চেয়ে কি পেয়েছে সে হিসাব কষতে হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান যৌথভাবে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনের পর থেকে যেখানে সব আয়োজন বন্ধ সেখানে এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ পড়ে রয়েছে সেই তিমিরেই। একটা বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য লাল সবুজ দেশের নাম ঘোষণা করা হলেও সেটি ২০৩১ সালে!
সময়ের হিসেবে ১০ বছর পর আর সর্বশেষ আয়োজনের ২০ বছর পর। অথচ এককভাবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন করতে আবেদন করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেটির অনুমোদন দেয়নি আইসিসি। পাশাপাশি ওয়ানডে বিশ্বকাপ শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের সঙ্গে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করতে আবেদন করেছিল। বিষয়টি নিয়ে আইসিসি সভায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছিল বিসিবি।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে সাড়া পেলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সহআয়োজক করা হয়েছে ভারতকে। তাতে অবশ্য তেমন একটা অখুশি নয় বিসিবি। দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন, ’বিশ্বকাপের আয়োজন হিসেবে নাম ঘোষণার পর আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজন করতে, কিন্তু এখন বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হয়েছি। এটা গৌরবের সঙ্গে অনেকটা লাভজনকও।’
এককভাবে বিশ্বকাপের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন করতে না পারাটাকেও ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিসিবি কর্মকর্তারা। তাহলে বোঝাই যায়, কম প্রত্যাশা করে বেশি পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৪ থেকে ২০৩১ সালের ৮ বছরের চক্রে পুরুষদের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে কেবল একটির আয়োজক হতে পেরেছে লাল সবুজ পতাকাধারীরা। ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে যৌথ আয়োজক হয়েছে বাংলাদেশ।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আইসিসির বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম পর্যাপ্ত ভেন্যু থাকা। ভেন্যুর পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজনের জন্য আবেদন করেনি বাংলাদেশ।
তবে এককভাবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজনের জন্য আবেদন করলেও সেটি গুরুত্ব পায়নি। ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজনে পূর্ণ মনোযোগ থাকলেও পরিণতি হয়েছে একই। আইসিসি থেকে সাড়া না মেলায় কিছুটা হলেও হতাশ হতে হয়েছে।
হয়তো সমর্থকদের মধ্যে হতাশাটা বেশি, ঠিক ততটা নয় বিসিবির। এককভাবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হয়ে বাংলাদেশ বেশি লাভবান হবে বলে বিসিবি’র প্রধান নির্বাহী যুক্তি তুলে ধরেছেন, ‘আইসিসি‘র ইভেন্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক হচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ভারত বরাবরই বাণিজ্যিক দিক থেকে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে। আমরা সেই সুবিধাই এবার পাবো। বাংলাদেশের বাজারও ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। এর আগে আমরা কোয়ার্টার ফাইনালসহ আটটি ম্যাচ করেছিলাম’।
এর আগে ২০১১ সালে ভারত-শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০১৪ সালে এককভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করে নিজেদের প্রমাণও করেছে বাংলাদেশ। ২০১১ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ ৮টি ম্যাচ আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ হয়েছিল ৩৫টি।
For add
For add
For add
For add
for Add