for Add
নিজস্ব প্রতিবেদক : ৭ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১৯:৪৩:৩১

প্রচার বিমুখ এক ক্রীড়া অন্তপ্রাণ সংগঠক তিনি। যিনি নিরবে নিভৃতে কাজ করে চলেছেন। স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় সবখানেই তাঁর সরব উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। কখনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করে খেলার পরিবেশ তৈরি করছেন। কখনো অসুস্থ ক্রীড়াবিদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা করছেন। আবার কখনো তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্রীড়াবিদদের স্পন্সরও জোগাড় করছেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেও একজন আন্তর্জাতিক ফিদে রেটিংধারী খেলোয়াড়। এমন কী, তাঁর দুই পুত্র সন্তানও আন্তর্জাতিক রেটিংধারী খেলোয়াড়। তাঁর সহধমিণীও একজন ক্রীড়ানুরাগী। বলতে গেলে তাঁর পুরো পরিবারটাই একটা স্পোর্টস ফ্যামিলি। এতোক্ষণ ধরে যাঁর কথা বলছিলাম তিনি হলেন বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মর্তুজা শরিফুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার কর কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ২২তম ব্যাচের এ মেধাবী অফিসার শতব্যস্ততার মাঝেও অবসর আর ছুটির দিনগুলোতে শুধু ক্রীড়া নিয়েই কাজ করছেন না, সেই সঙ্গে সমাজের দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার উপকরণ দিয়ে সহায়তা করছেন। স্থানীয়ভাবে দুটি পাঠাগারও গড়ে তুলেছেন। একটি নারায়ণগঞ্জ সদরে নুরুল ইসলাম স্মৃতি পাঠাগার এবং অপরটি হচ্ছে বন্দরে সালমা বেগম স্মৃতি পাঠাগার। পাঠাগার দুটিতে প্রতি শুক্রবার ও শনিবারসহ সপ্তাহে ৪ দিন বই পড়ার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি, নাচ, গান ও খেলাধুলা শেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এখানেই তিনি থেমে নেই। পরিবেশ নিয়েও কাজ করছেন। ‘পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ নামে একটি সংঠনের সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত। সরকারী ছুটির দিনে নিজ জেলার আশেপাশে একদল ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে নেমে পড়ছেন। আবার কখনো কখনো রাজধানীর ঢাকা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কারে নেমে পড়ছেন। এছাড়া ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত খেলোয়াড়-সংগঠকদের যেকোনো ট্যাক্স/ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা করে থাকেন। জাতীয় পর্যায় বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কাজের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত।

কক্সবাজার কর কমিশনার মর্তুজা শরিফুল ইসলাম এক প্রশ্নে বলেন, দেশ আমাকে শিক্ষিত করেছে, প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাষ্ট্র আমাকে এ পর্যায় নিয়ে এসেছে। দেশকে আমারও কিছু দেওয়ার রয়েছে। রাষ্ট্রসেবার পাশাপাশি যতটুকু সময় পাই অবসরে আমি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ক্রীড়া, শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কাজ করার চেষ্টা করছি। অপর প্রশ্নে বলেন, আমার পুরো পরিবারই একটি ক্রীড়া পরিবার। বড় ছেলে মর্তুজা মাহাথির ইসলাম ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় ভারতীয় স্কুল টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এমন কী, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ যুব গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল। বর্তমানে ও’ আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করছে। সুযোগ পেলে সেখানেও দাবা টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। ছোট ছেলে মর্তুজা মুহতাদি ইসলাম ২০১৮ সালে বাংলাদেশ যুব গেমসে স্বর্ণপদক জিতেছিল। ওদের দেখাদেখি আমি নিজেও মাঝে মধ্যে দাবা খেলার চেষ্টা করি। দুই ছেলের মতো আমারও আন্তর্জাতিক রেটিং রয়েছে।

মর্তুজা শরিফুল ইসলাম আরো জানান, যখন বৈশ্বিক করানোভাইরাসে সবকিছু স্থবির হয়ে পড়েছিল তখন ক্রীড়াঙ্গনও ঝিমিয়ে পড়েছিল। সেসময় সাধ্যমতো স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ওইসময়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করলে নারায়ণগঞ্জে নুরুল ইসলাম স্মৃতি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছিলাম। যেখানে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়রাও অংশ নিয়েছিলেন। এরপর থেকে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন করার চেষ্টা করেছি। শুধু তাই নয়, দাবা ছাড়া ফুটবলসহ স্কুল ছাত্রছাত্রীদের জন্য আমার পাঠাগারের মাধ্যমে নানারকম খেলাধুলার আয়োজন করে আসছি। তিনি বলেন, বর্তমানে চাকরির সুবাদে কক্সবাজারে অবস্থান করছি। ভবিষ্যতে কক্সবাজার বিচে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট করার ইচ্ছে রয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সাবেক যুগ্মসম্পাদক মোরসালিন আহমেদ কক্সবাজার এসে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করে গেছেন।

অপর এক প্রসঙ্গে মর্তুজা শরিফুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে নিজ শহরে দুটি পাঠাগার স্থাপন করেছি। শুধু তাই নয়, পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে কাজ করছি। আমরা যদি পরিবেশকে বসবাস যোগ্য না রেখে যেতে পারি তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। সেদিক বিবেচনা করে চারপাশের পরিবেশকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিচ্ছি। অন্যদের উৎসাহ যোগাতে মাঝে মধ্যে নিজ জেলার বাইরে গিয়েও ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে স্কুল, কলেজ প্রাঙ্গন বা কোনো মহল্লা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার চেষ্টা করছি।
For add
For add
For add
For add
for Add