for Add
মোরসালিন আহমেদ : ৫ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার, ০:৩৭:৩৮

সীমিত সুযোগ সুবিধার মধ্যে আমরা বিশ্বকাপ ব্রিজে নিজেদের মেলে ধরার চেষ্টা করেছি। এশীয় পর্যায় বেশ কয়েকবার সাফল্যে ছিনিয়ে এনেছি। কিন্তু তাস মানে জুয়া নয়, এটাই কেউ বুঝতে চান না। এক্ষেত্রে আমরা প্রচার, প্রসার আর জনপ্রিয়তার দিকে থেকে পিছিয়ে পড়ছি। নানা রকম প্রতিকূলতার মধ্যে আমাদের এগিয়ে যেতে হচ্ছে। অথচ এটি একটি বুদ্ধিভিত্তিক খেলা। সম্ভাবনাময় খেলা। আন্তর্জাতিক আঙিনায় আমাদের ভালো করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এভাবেই খেলাটির নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলছিলেন সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশ ব্রিজ ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাইমুল হাসান তপু।
প্রশ্ন: ব্রিজে আগ্রহী হলেন কিভাবে?
নাইমুল হাসান: খেলাটি সম্পর্কে আমার তেমন ধারণা ছিল না। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮৭ সালে যখন পড়াশোনা করছিলাম তখন বন্ধুদের সঙ্গে একটু আর্ধটু করে খেলার চেষ্টা করতাম। কিন্তু পারতাম না কিছুই। আমাদের দুই বন্ধু সেসময় ডুপ্লিকেট কন্ট্রাক্ট ব্রিজ দারুণ খেলত। তাদের উৎসাহে আমরা আরোও দু’ তিনজন বন্ধু মিলে খেলতে শুরু করি। সেই থেকে ব্রিজের সঙ্গে আমার সখ্য গড়ে উঠেছিল।
প্রশ্ন: সংস্কার প্রক্রিয়ায় আপনাকে একই পদে রাখা হয়েছে। তারপরও দায়িত্ব পালনে কি ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন?
নাইমুল হাসান: শেষ দু’ বছর আমি সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম। সার্চ কমিটি সংস্কার প্রক্রিয়ায় আমার উপর আস্থা রাখায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। দায়িত্ব পালনে আগে থেকেই মূলত চারটি বিষয় প্রচণ্ড রকম চ্যালেঞ্জ ফেস করে আসছি। এক. আমাদের নিজস্ব প্লেয়িং ভেন্যু নেই। দুই. স্পন্সরের অভাব। তিন. নতুন প্রজন্মের অনুৎসাহ। চার. ব্রিজ খেলাকে সবাই এখনো সামাজিকভাবে গ্রহণ করতে না পারা। এর ফলে অতীতে আমরা সাংগঠনিকভাবে দেশব্যাপী তেমন এগোতে পারিনি। তবে আশার কথা হচ্ছে আগের চেয়ে সবার দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোয় ক্রমশ: এ খেলাটির প্রচার, প্রসার ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রশ্ন: একটা সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসে ফেডারেশনে কি ধরনের সংস্কার করতে চান?
নাইমুল হাসান: সংস্কারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিজেকে পরিবর্তন করা। আমরা নিজেদের সংশোধন করতে পারলে জাতি এমনিতেই দাঁড়িয়ে যাবে। অন্যের উপকার না করতে পারলেও যেন কারোর ক্ষতির কারণ আমরা না হই। দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসতে হবে। নবীন খেলোয়াড় বৃদ্ধি করাই হবে আমাদের সংস্কারের মূল লক্ষ্য।
প্রশ্ন: অনেকের বিরুদ্ধে ফান্ড তছরুপের অভিযোগ ছিল। এক্ষেত্রে কোথাও কি অনিয়ম-দুর্নীতি পেয়েছেন?
নাইমুল হাসান: আমরা সমৃদ্ধশালী কোনো ফেডারেশন নই। কাজেই ফান্ড তছরুপের প্রশ্নই আসে না। নথি পত্র ঘেটে কোথাও কোনো অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির গন্ধ পাইনি। তবে ব্যক্তিগতভাবে কেউ কিছু করে থাকলে আমাদের জানা নেই।

প্রশ্ন: একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে ‘নো মানি নো রান’। সে অর্থে স্পন্সর কেমন পাচ্ছেন?
নাইমুল হাসান: প্রয়োজনের তুলনায় খুব বেশি স্পন্সর পাচ্ছি না। তবে ইস্পাহানি, সিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক থেকে সর্বাত্বক সহযোগিতা পাচ্ছি। যদি দেশের অন্যসব শীর্ষ স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসত তাহলে আমাদের স্পন্সর সংকটে ভূগতে হতো না।
প্রশ্ন: গতানুগতির কার্যক্রমের বাইরে নতুন কোনো পরিকল্পনা করেছেন কি?
নাইমুল হাসান: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের এ খেলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত সেমিনার করছি। টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেষ্টা করছি। খেলা শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্রমশ: আগ্রহ জন্মাচ্ছে।
প্রশ্ন: এ খেলার যেখানে নিজস্ব কোনো ভেন্যুই নেই সেখানে এর ভবিষৎ কি?
নাইমুল হাসান: ভেন্যুর জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে অবহিত করেছি। আমাদের সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়েছি। অনেক দিন ধরে অনুরোধ করে আসছি। একটা ভালো ভেন্যু ও পরিবেশ দিতে পারলে নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই উৎসাহিত করা যেত।
প্রশ্ন: প্রকৃত অর্থে ব্রিজ কতটা এগিয়েছে বলে মনে করেন?
নাইমুল হাসান: সীমিত সুযোগ সুবিধার মধ্যে খেলোয়াড়দের গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে। খেলাটি এখন অলিম্পিক ইভেন্ট হওয়ায় আলাদা রকম গুরুত্ব বেড়েছে। এর ফলে খেলার সুযোগ ক্রমান্বয়ে বাড়বে। নিয়মিত অনুশীলন, প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারলে খেলোয়াড় সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করলে খেলার গুণগত মান আরো বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু সামাজিকভাবে নানান ট্যাবু ও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাবে বুদ্ধিভিত্তিক এ খেলাটির জন্য বর্তমানে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও বাংলাদেশ ব্রিজ খেলোয়াড়দের অনেক ঈর্ষণীয় সাফল্য রয়েছে।

প্রশ্ন: কিন্তু নারীরা কেনো ব্রিজে এগিয়ে আসছেন না?
নাইমুল হাসান: সামাজিক প্রতিবন্ধকতা আর পিছু লোকে কিছু বলে এসব কারণেই আমরা ব্রিজে তেমন নারী খেলোয়াড় পাচ্ছি না। তারপরও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ব্রিজে আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করছি। বর্তমানে বেশ কিছু নারী রয়েছেন যারা ভালো করছেন। আশা করছি দ্রুত সময়ের নারী খেলোয়াড়ের সংকট থেকে বেরিয়ে আসব।
প্রশ্ন: যারা শিখতে চান তাদের জন্য কি ধরনের সহায়তা করছেন?
নাইমুল হাসান: ব্রিজ হচ্ছে ধৈর্য, চিন্তাশক্তি আর বুদ্ধিমত্বার খেলা। যারা খেলা শিখতে আগ্রহী তাদের আমরা সর্বদাই উৎসাহ দিয়ে থাকি। সিনিয়র খেলোয়াড়রাই জুনিয়রদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তবে বিদেশী কোচ আনতে পারলে আমাদের উন্নতির সম্ভাবনা আরো বৃদ্ধি পাবে।
প্রশ্ন: ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গনে ব্রিজ খেলাকে জুয়ার সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা হচ্ছে- এ থেকে উত্তরণের উপায় কি?
নাইমুল হাসান: এটাই তো সমস্যা। বাংলাদেশের মানুষ মনে করে তাস মানেই খারাপ কিছু। কিন্তু তাস মানে চিন্তার জগৎ উন্মোচিত হওয়া, যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখাও। এটা ঠিক তাস দিয়ে জুয়া খেলা হয় বেশি। কিন্তু তাস মানে শুধু ৩ কার্ড, ৯ কার্ড বা জুয়া নয়। এটা বুদ্ধিভিত্তিক একটা খেলা। এ কথাটাই সবাইকে বুঝাতে হবে।
প্রশ্ন: দায়িত্ব পালন শেষে ব্রিজকে কোথায় রেখে যেতে চান?
নাইমুল হাসান: তাস মানে জুয়া নয়- নতুন প্রজন্মকে ব্রিজ খেলার এমন সম্যক ধারণা দিয়ে যেতে চাই। আন্তর্জাতিক ব্রিজে বাংলাদেশকে একটি শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে যেতে চাই। যা ভবিষ্যতে সাফল্যের দ্বার উম্মোচন করবে।
For add
For add
For add
For add
for Add