for Add
নিজস্ব প্রতিবেদক : ৪ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ২৩:৪৭:৫৫

বাংলাদেশের সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘গলফে ব্যাসিক টেকনিক্যাল বিষয়গুলো জানা খুবই জরুরী। শেষ চারদিনে স্লোভেনিয়ার কোচের কাছে অনেক নতুন কিছু শিখলাম। যদি আমাদের গলফার এবং স্থানীয় গলফ কোচরা এমন জিনিস নিয়মিত শেখার সুযোগ পায়, তাহলে এটা বলতেই হবে দেশের গলফে সামনে দারুণ সময় আসছে।’
বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের আয়োজনে আর্মি গলফ ক্লাবের বাংলাদেশ গলফ একাডেমীতে চারদিন ব্যাপী স্থানীয় কোচদের ট্রেনিং প্রোগ্রাম ‘টেকনিক্যাল কোর্স ফর কোচেস ইন গলফ’ শেষ হলো শনিবার। এই প্রোগ্রামে সার্বিক সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন।
বাংলাদেশের স্থানীয় কোচদের মান উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই কোর্সের আয়োজন করা হয়। কোচিং করালেন বিশ্বখ্যাত গলফ কোচ স্লোভেনিয়ার ইউরোস গ্রেগরিচ। এখানে অংশ নিয়েছেন দেশের তারকা গলফাররাও। সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এই আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারী জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান রানা। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল অব. মাসুদ রাজ্জাক।
এই কোর্সে সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন তার স্ত্রী তারকা নারী গলফার সামাউন আনজুম অরণী। অরণী বলেন, ‘এখানে আমি অনেক নতুন কিছু শিখেছি। আমি চাই প্রতিনিয়ত এ ধরণের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হোক।’
দেশীয় কোচরা যাতে নতুন গলফার তৈরিতে আরও পারদর্শী হয়ে ওঠেন এবং তাদের শেখানোর মধ্যে যাতে কোনো গ্যাপ না থাকে সেজন্যই বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশন প্রথমবারের মতো এমন অভিনব আয়োজন করে। এমন আয়োজনে ট্রেনার হিসেবে অংশ নিতে পেরে বেশ খুশি স্লোভেনিয়ার কোচ ইউরোস গ্রেগরিচ। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি বাংলাদেশে গলফের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার কোচদের মধ্যে দারুণ প্রতিভাও আছে। আমি অনেক দেশেই এমন ট্রেনিং করিয়েছি। এটা খুবই দরকারী। এতে কোচদের দক্ষতা বাড়বে। আমি বাংলাদেশে এমন একটি আয়োজনের ট্রেনার হতে পেরে খুবই খুশি।’
বাংলাদেশ সম্পর্কে গ্রেগরিচ বলেন, ‘বাংলাদেশ দারুণ একটা দেশ। আমি যতদূর জানি, এখানকার জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। কিন্ত গলফেও বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা আছে। এখানকার কোচদের মধ্যে আমি অনেক আগ্রহ লক্ষ করেছি। এটা খুবই ইতিবাচক দিক।’
বিজিএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ প্রফেশনাল গলফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল অব. মাসুদ রাজ্জাক বলেন, ‘অলিম্পিকের মতো বড় আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে প্রথমবারের মতো ওয়াইল্ড কার্ড ছাড়া অংশগ্রহণ করেছেন গলফার সিদ্দিকুর রহমান। তাই এটা বলার অপেক্ষা রাখে না গলফে আমাদের পটেনশিয়াল কতটা! তবে এই মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। সবার আগে এখানকার কোচদের উন্নত প্রশিক্ষণ জরুরী। যারা নতুন গলফার তৈরি করবেন, তাদের শেখানোর মধ্যে যাতে কোনো রকম ঘাটতি না থাকে সে কারণেই এমন ট্রেনিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। এটা আমাদের গলফে দারুণ কার্যকরী একটি পদক্ষেপ।’
বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের জেনারেল সাঈদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর গলফের উন্নতির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। দেশের গলফের উন্নতি করতে হলে সবার আগে কোচদের মান উন্নয়ন করতে হবে, কেননা তারাই তো গলফ শেখান। আমার বিশ্বাস এই ট্রেনিং আমাদের স্থানীয় কোচদের আরও বেশি দক্ষ করে তুলবে।’
বাংলাদেশ জাতীয় গলফ দলের কোচ নাদিম হোসেন বলেন, ‘আগে যাদের সামর্থ্য ছিল তারা বিদেশে গিয়ে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কিন্ত এখন আমরা দেশের মাটিতেই উন্নত মানের প্রশিক্ষণ পাচ্ছি। এই প্রশিক্ষণ নতুন গলফারদের শেখাতে অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে।’
চারদিনের এই প্রোগ্রাম শেষে স্থানীয় কোচদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। এমন স্লোভেনিয়ার কোচ ইউরোস গ্রেগরিচকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।
For add
For add
For add
For add
for Add