for Add
নিজস্ব প্রতিবেদক : ২ নভেম্বর ২০২৬, সোমবার, ১৯:৫০:৩৬

প্রথম টেস্টে হারের পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটের জয় পেলেও সিলেটে স্বাগতিকদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশ সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে, এমনটাই প্রত্যাশা ক্যারিবীয় কোচের।
মিরপুরে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৪২ রানে গুটিয়ে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান। দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিংয়ের অপরাজিত ৮১ ও জন ক্যাম্পবেলের ৪৯ রানের সুবাদে মাত্র দুই উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সফরকারীরা। তাতে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তবে এই জয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না স্যামি। বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সকে ভালোভাবেই চেনেন তিনি। স্যামি যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ছিলেন, তখন সিমন্স ছিলেন দলটির প্রধান কোচ। তাঁর অধীনেই ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ক্যারিবীয়রা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই স্যামির বিশ্বাস, সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
স্যামি বলেন, ‘ফিলকে নিয়ে একটি বিষয় আমি জানি, সে কোনো কিছুই সহজ হতে দেবে না। সেও জিততে চায়। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (ডব্লিউটিসি) বাংলাদেশেরও নিজস্ব লক্ষ্য রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে যে ক্ষুধা, দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা এবং খুঁটিনাটি বিষয়ে মনোযোগ দেখছি, তাতে আমি নিশ্চিত—সিলেটে যে পরিস্থিতিরই মুখোমুখি হই না কেন, বাংলাদেশে জয় দিয়ে এই টেস্ট চক্র শেষ করতে আমরা প্রস্তুত থাকব। যদিও নিজেদের মাঠে বাংলাদেশকে হারানো সহজ নয়।’
নিজের দলের ওপর আস্থা থাকলেও বাংলাদেশকে কোনোভাবেই হালকাভাবে না নেওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের সতর্ক করেছেন স্যামি। বিশেষ করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এবং ঘরের মাঠে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর তাড়নাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
স্যামি বলেন, ‘এই সিরিজ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট জিতে তারা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে ছিল। তাই এখানে কী ঝুঁকিতে রয়েছে, সে বিষয়ে আমরা পুরোপুরি সচেতন।’
মিরপুর টেস্টে হারের পর ডব্লিউটিসির পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থান থেকে পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ২৬.৯২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চলমান চক্রে নিজেদের ১৩তম টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়টি ক্যারিবীয়দের তৃতীয় জয়।
স্যামি বলেন, ‘বার্বাডোজে ডব্লিউটিসি চক্র শুরুর সময় আমরা যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছিলাম, সেগুলো অর্জনে দলের সবাই আগ্রহী।’
আগামী বছরের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়লেও টেস্ট দল হিসেবে নিজেদের উন্নতি নিয়ে আশাবাদী স্যামি। তাঁর মতে, খেলোয়াড়েরা ধীরে ধীরে নিজেদের দায়িত্ব ও ভূমিকার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘টেস্ট দল হিসেবে আমাদের অগ্রগতির দিকে তাকালে মনে হয়, দল এখন ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে। প্রত্যেক খেলোয়াড়কে যে দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে, তারা সেই ভূমিকায় মানিয়ে নিচ্ছে।’
প্রথম টেস্টে দুই দলের স্পিন আক্রমণের পার্থক্যও তুলে ধরেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ। বাংলাদেশের মাটিতে খেলেও নিজেদের স্পিনারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট তিনি। স্যামির মতে, বোলিংয়ের পাশাপাশি স্পিন সামলানোর ক্ষেত্রেও এগিয়ে ছিল তাঁর দল।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বোলিংয়ের ধরনও ভালো ছিল। আমার মনে হয়েছে, আমাদের স্পিনাররা বাংলাদেশের স্পিনারদের চেয়ে ভালো বোলিং করেছে। পাশাপাশি আমাদের ব্যাটাররা স্পিনের বিপক্ষে ভালো খেলেছে।’
এদিকে সিলেট টেস্টের আগে বাংলাদেশ দলে এসেছে একটি পরিবর্তন। প্রথম টেস্টে মাথায় আঘাত পেয়ে কনকাশনজনিত কারণে ছিটকে গেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। তাঁর পরিবর্তে ১৫ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন ব্যাটার আমিত হাসান। প্রথম টেস্টে আঙুলের চোটের কারণে খেলতে না পারা মুশফিকুর রহিমও ফিরেছেন ঘোষিত দলে।
৫ নভেম্বর থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ৯ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই ম্যাচ। সিরিজ বাঁচাতে বাংলাদেশের সামনে জয়ের বিকল্প নেই। অন্যদিকে সিলেটে জিততে পারলে দুই ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
For add
For add
For add
For add
for Add