for Add
নিজস্ব প্রতিবেদক : ৩০ আগস্ট ২০২৫, শনিবার, ০:১৪:৫৭

ক্রিকেট ও ফুটবলের বাইরে সাধারণত অন্যান্য ডিসিপ্লিনের সেরা খেলোয়াড়ের জন্য খুব কম সময়ই মূল্যবান পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে থাকে ফেডারেশন। কখনও স্পনসর প্রতিষ্ঠান দায়সারা ভাবে কিছু অর্থ পুরস্কার দেয়। কখনও সেটাও জোটে না খেলোয়াড়দের ভাগ্যে। সেদিক দিয়ে ব্যতিক্রমই বলতে হবে ফেন্সিং ফেডারেশনকে।
শুক্রবার শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে জুলাই রেভুলেশন ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ। এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো স্পনসর করছে বিখ্যাত মোটরবাইক ব্র্যান্ড সুজুকি। আর প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসেই নিজেদের আকর্ষণীয় সুজুকি মোটরসাইকেল পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন র্যানকন গ্রুপের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোমো রউফ চৌধুরী।
২৯ ও ৩০ আগস্ট শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে হবে এই প্রতিযোগিতা।
জুলাই রেভুলেশন ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাব সমূহ।প্রতিযোগিতার দলগত ইভেন্ট থাকছে না। ইপি, সেবার, ফয়েল-এই তিনটি ব্যক্তিগত ইভেন্টে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে অংশ নেবে প্রায় ১৭৫ জন ফেন্সার।
প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষকতা প্রতিষ্ঠান সুজুকি মোটর বাইক। আর সুজুকি মোটরসাইকেলের বাংলাদেশে বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান র্যানকন গ্রুপের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোমো রউফ চৌধুরী অনুষ্ঠানে এসে বলেন, “আমরা মোটরসাইকেলের যে ব্যবসা করি সেটা তরুণদের জন্য। ফেন্সিংও তেমনি তরুণদের খেলা। আমি মনে করি ফেন্সিং ও মোটরসাইকেল হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাবে। এখানে একটি কথা বলতে চাই। আপনারা অনুমতি দিলে পরের প্রতিযোগিতায় স্পনসর করবো মোটরসাইকেল। ওই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হলেই তাকে দেওয়া হবে সুজুকি বাইক।”
নিজে এক সময় গলফ খেলতেন রোমো রউফ চৌধুরী। সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এখানে আসতে পেরে খুব সম্মানিত বোধ করছি। এখানে তরুণ অ্যাথলেটদের দেখে খুব ভালো লাগছে। এক সময় আমি গলফ খেলতাম। স্বপ্ন ছিল প্রফেশনাল গলফার হবো। কিন্তু সেটা হতে পারিনি। বাবার ব্যবসায় চলে এলাম। আজ যে প্রতিযোগিতায় আপনারা অংশ নিচ্ছেন এটা শুধু বিনোদনের জন্য না। পরে চাকরিতেও কাজে দেবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব আহমেদ। তিনি ফেন্সিংয়ে আরও বরাদ্দ বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, “আসন্ন এসএ গেমসে আশা করি ভালো করবে ফেন্সাররা। সম্প্রতি ফেন্সিং ফেডারেশন বলেছিলো তাদের সহায়তা করতে। সেই প্রেক্ষিতে বলছি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে যে নিয়মিত বরাদ্দ আছে তার বাইরেও আরও ৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেব। এটা শুধু এখনই না। এই ধরনের অনুদান অব্যাহত রাখব। তবে এই অনুদানের বিনিময়ে ফেন্সারদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক আনতে হবে।”
ফেন্সিংয়ের সোনা জয়ের জন্য প্রয়োজন বিদেশি কোচের। কিন্তু সেই কোচও পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে কোচের চাহিদা আকাশচুম্বি। বেতনও বেশি। তাই সহযোগিতার জন্য ফেন্সিং ফেডারেশনের সভাপতি মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম চেয়ে রইলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দিকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে ফেন্সিং ফেডারেশনের সভাপতি মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম বলেন, “ বর্তমানে ফেন্সিংয়ের কোচ পাওয়া খুব কঠিন। আমরা সিনিয়র ও জুনিয়র কোচ পেয়েছি। কিন্তু এদের বেতন ব্যয়বহুল। ৪-৫ হাজার ডলার মাসিক বেতন দিতে হয়। গতবার যেভাবেই হোক একজন পেয়েছিলাম। এবার তাদের পারিশ্রমিক বেড়ে গেছে। আমি ক্রীড়া সচিবকে অনুরোধ করব তিনি যেন আমাদের অন্তত কোনও কিছু না হলেও কোচের বেতন যদি স্পনসর করেন তাহলে অবশ্যই সামনের দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে আমরা ঘুরে দাঁড়াবো এবং গতবারের চেয়ে আমরা এবার আরও ভালো ফল বয়ে আনব।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া পরিষদের সচিব আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক বসুনিয়া এম আশিকুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রেজাউর রহমান সিনহা, সদস্য শফিকুর রহমান, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান র্যানকন মোটর বাইকস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক কাজী আশিক উর রহমান।
For add
For add
For add
For add
for Add