for Add

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ যাত্রা : শ্বাসরুদ্ধকর জয়, হতাশাজনক হার

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ইতিহাস যতটা উচিৎ ছিল ততটা সমৃদ্ধ নয়। কিন্তু দেরিতে হলেও চোখে পড়ার উন্নতি করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। বড় কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে টাইগাররা। কোন দলের বিপক্ষ বাংলাদেশের জয় এখন আর আপসেট নয়। ২০১৫ সাল থেকে পারফরমেন্সের বিচারে বাংলাদেশের কাছ থেকে সাফল্যের প্রত্যাশা অনেকখানি বেড়েছে।

গত ছয়টি বিশ্বকাপে (১৯৯৯-২০১৯) এখন পর্যন্ত ৪২টি ম্যাচ খেলে ১৪টি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। কিছু হতাশাজনক হারের সাথে শ্বাসরুদ্ধকর জয়ও ছিল টাইগারদের। কিন্তু টানা চার আসরে তিনটি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও আছে বাংলাদেশের।

১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের সাথে ছিল জড়িত ছিল আবেগ। ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের ফলে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মেগা ইভেন্টে খেলার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। সেবার কেবলমাত্র ভাল ক্রিকেট খেলা ছাড়া বাংলাদেশের কাছ থেকে বড় কোন প্রত্যাশা ছিল না।

বিশ্বকাপের মতো আসরে সহযোগী দেশ স্কটল্যান্ডকে হারানোর প্রত্যাশাই ছিল সবচেয়ে বেশি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি স্বপ্নেও কল্পনা করেনি ঐ আসরের রানার্সআপ পাকিস্তানের মতো দলকে হারিয়ে অভিষেক বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ জিতবে বাংলাদেশ।

নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচ খেলে দুই ম্যাচে জয় তুলে নেয় বাংলাাদেশ। ঐ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সেরা পারফরমার ছিলেন জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। ৪ ম্যাচ খেলে দু’টি হাফ সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ ১৪০ রান করেছিলেন তিনি।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ৬৮ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াকু ৫৩ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন নান্নু। বল হাতে ৪ উইকেটও নেন তিনি। তৎকালীন সময়ে দেশ সেরা খেলোয়াড় হবার পরও বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে ছিলেন না নান্নু। দলে সুযোগ না হওয়ায় সারা দেশ জুড়ে ক্ষোভের জাগরণ ঘটে এবং সাধারণ জনসাধারণের ক্ষোভ ঠেকাতে নান্নুকে দলে ফেরাতে জাহাঙ্গীর আলমকে ঘোষিত স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে বাধ্য হন তৎকালীন বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। পরবর্তীতে এটি পরিণত হয় রূপকথায়।
কোন উপায় থাকলে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ স্মৃতি হয়তো মুছে ফেলতে চাইতো বাংলাদেশ।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠত বিশ্বকাপে কানাডা ও কেনিয়ার কাছে ম্যাচ হেরে বড় লজ্জার মুখে পড়ে বাংলাদেশ। ঐ বছর ঈদ উল ফিতরের আগেরদিন প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নামা অভিষেক হওয়া কানাডার কাছে ম্যাচে হারে বাংলাদেশ। তৎকালীন সময়ে টাইগারদের চিরপ্রতিন্দ্বন্দ্বী কেনিয়ার কাছে নিজেদের শেষ ম্যাচে হেরে দুঃস্বপ্নের বিশ্বকাপের ইতি টানে টাইগাররা।

২০০৩ সালের দুঃস্বপ্নের বিশ্বকাপ বাংলাদেশের জন্য বড় শিক্ষার আসর ছিল। সেই দুঃস্বপ্নের বিশ্বকাপের পর দেশের ক্রিকেট ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে কোচিং স্টাফদের পরিবর্তনের পর খেলোয়াড়দের তালিকাতেও রদবদল হয়। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের দুঃস্মৃতি মুছে ফেলার জন্য তরুণ খেলোয়াড়দের দিকে নজর দেয় বাংলাদেশ। একাডেমি এবং বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের দলে ভেড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করে তারা। আর সেটাই ছিল সময়োপযোগী সিদ্বান্ত।

ভারতের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয় দিয়ে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে যাত্রা করে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে ঐ জয়কে যে কেউ সবচেয়ে বড় অঘটন বললেও পোর্ট অফ স্পেনে বাংলাদেশ যেভাবে জিতেছে সেটি ছিল ঐতিহাসিক।

ভারতের পর বারমুডাকে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে সুপার এইটে খেলার টিকিট পায় বাংলাদেশ। এমন ফর্মেটেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল সে আসর। এরপর সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অবিস্মরণীয় করে রাখে বাংলাদেশ। যৌথ আয়োজক হওয়ায় ২০১১ সালের বিশ্বকাপে আকাশ ছোয়া প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের কাছে। এখনকার মতো বড় দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচ জেতার মতো ধারাবাহিক না হলেও প্রতিপক্ষের মাথাব্যথার কারণ ছিল টাইগাররা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলের প্রথম জয়সহ ঐ আসরে তিন ম্যাচ জিতেও পরের রাউন্ডে উঠতে পারেনি টাইগাররা। কারণ বাকি তিন ম্যাচে দলের পারফরমেন্স ছিল সাধারণ মানের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বাজেভাবে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়তে হয় টাইগারদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৫৮ রানে অলআউট হয় তারা। যা এখনও ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৮ রান গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। এই দু’টি ম্যাচে বাজে পারফরমেন্সের কারণে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে টাইগাররা।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ শুরুর আগে সবচেয়ে উন্নতি করা এক দলে পরিণত হয় বাংলাদেশ। ধারাবাহিক পারফরমেন্সে বড় দলগুলোকে হারানোর ক্ষেত্রে ভয়ংকর দলের তকমা পায় তারা। মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ইভেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নক আউট ম্যাচে খেলতে নেমে নো বল বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে তারা। বাংলাদেশের সকলেই এখনো বিশ্বাস করে শেষ আটের ঐ ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে পারতো জাতীয় দল। যদি না পেসার রুবেল হোসেনের একটি ডেলিভারিতে বির্তকিত নো বল’এ জীবন পেয়ে ১২৬ বলে ১৩৭ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস না খেলতেন রোহিত শর্মা। আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ।

সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত পারফরমেন্স ও তিনটি জয়ের পরও ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ বাংলাদেশের জন্য এখনও হতাশাজনক মিশন বলে লিপিবদ্ধ হয়েছে। যুগ যুগ ধরে চলা বিশ্বকাপে এমন পারফরমেন্স দেখিয়েছেন সাকিব, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে কেউ করতে পারেনি। ব্যাটিংয়ে ৬০৬ রান এবং বোলিংয়ে ১১ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেন এই বাঁ-হাতি। বিশ্বকাপের মতো আসরে ৫শর বেশি রান করার পাশাপাশি ১০ উইকেট নিয়ে ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে নজির গড়েন সাকিব। একটি বাদে সব ম্যাচে ৫০ এর বেশি রানের ইনিংস খেলেন সাকিব। ৫০ এর নিচে থাকা ইনিংসটি ছিল ৪১ রানের। ঐ আসরে ২টি সেঞ্চুরি এবং ৬টি হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস ছিল তার। বাংলাদেশের তিনটি জয়েই ম্যাচ সেরা ছিলেন সাকিব। কিন্তু একজনের একার পারফরমেন্সে অন্তত বিশ্বকাপের মতো ট্রফি জয় করা সম্ভব নয়। সাকিবের দুর্ভাগ্য যে, বাংলাদেশের কেউ পুরোপুরিভাবে তাকে সাপোর্ট করতে পারেনি। কিন্তু ঐ আসরের সেমিফাইনালে খেলার ভালো সুযোগ ছিল বাংলাদেশের।

এবারের বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাকিব। নিঃসন্দেহে এই আসরেও বাংলাদেশ অন্যতম ভরসার নাম সাকিব। কিন্তু প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে হলে সাকিবের সাথে অন্যদেরও জ্বলে উঠতে হবে। তা ছাড়া এটাই হতে যাচ্ছে সাকিবের শেষ বিশ্বকাপ। পাশাপাশি তারুণ্য নির্ভর দলটির প্রত্যাশাও অনেক বেশি। -বাসস

সব সংবাদ

৪০০তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ম্যাচ জিতে রেকর্ড জোকোভিচের নড়াইলে তারুণ্যের উৎসব চুকবল কর্মসূচি চট্টগ্রামকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী হকির সাবেক অধিনায়কের এ কি কান্ড! বিব্রতকর হার নিয়ে রেসলিং ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন জন সিনা বিজয় দিবসে বিসিবির প্রীতি ম্যাচে খেলবেন যারা বিএনপির মনোনয়ন পেলেন সাবেক দুই তারকা ফুটবলার ৩০ নভেম্বর কক্সবাজারে বিওএ’র নির্বাচন বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএসপিএর নতুন কার্যালয় উদ্বোধন এশিয়ান আর্চারিতে ভালো করার প্রত্যয় মেসির গোলেও শেষ রক্ষা হলো মিয়ামির ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে টিটির লক্ষ্য সেমিফাইনাল ২১তম জাতীয় দূরপাল্লা সাঁতার প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক থাকছেন শান্ত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের প্রত্যাশা বাংলাদেশের নোশিনের শিরোপা অক্ষুন্ন হাসপাতালে ভর্তি মাহমুদউল্লাহ যোগ দিয়েছেন জামাল-জায়ানসহ ১৪ জন, ভারত ম্যাচের ক্যাম্প শুরু নারী হকিতে কোটি টাকার টুর্নামেন্ট থাইল্যান্ডের কাছে হেরে গেল বাংলাদেশের মেয়েরা কাভাকাপ ভলিবলে বাংলাদেশের টানা তৃতীয় জয় আর্টিসান জাতীয় সেপাক টাকরো শুরু কাভাকাপ ভলিবলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয় সেরা সাঁতারু সামিউল রাফি চট্টগ্রামে কাল জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট শীর্ষ দাবাড়ুরা খেলবেন ব্লাইন্ডফোল্ড চেস টুর্নামেন্ট আন্তর্জাতিক ভলিবলে মালদ্বীপকে হারিয়ে শুরু বাংলাদেশের জাতীয় সাঁতারে সামিউল রাফির আরেকটি রেকর্ড নরসিংদীতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ খেলার উপযোগী করার নির্দেশ এশিয়ান যুব গেমস কাবাডিতে বাংলাদেশের পদক জয় কাভা আন্তর্জাতিক ভলিবল কাল থেকে শুরু রাফির ৪টি রেকর্ডসহ মোট ৭টি জাতীয় রেকর্ড ২৪ অক্টোবর শুরু হচ্ছে জাতীয় সেপাক টাকরো  জাতীয় সাঁতারে প্রথম দিনে ৫টি নতুন জাতীয় রেকর্ড কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভালে সেরা ক্রীড়াবিদ মুকুল জয় দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শুরু করতে চায় বাংলাদেশ নভেম্বরে ঢাকায় নারী বিশ্বকাপ কাবাডি আগামী এক বছরে ২৪টি ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত আনচেলত্তি নারী হকিতে ভরসার নাম অর্পিতা পাল বাংলাদেশের মেয়েদের দুবাইয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেও সহজ জয় ওয়ার্ল্ড টেনিস ট্যুর জুনিয়র টেনিসে বাংলাদেশের জারিফ চ্যাম্পিয়ন শেষ মুহূর্তের গোলে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ হার দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের হংকংয়ের বিপক্ষে পূর্ণ তিন পয়েন্টের লক্ষ্য ক্যাবরেরার ওয়ার্ল্ড টেনিস ট্যুর জুনিয়র শনিবার থেকে শুরু ৪ বছর পর শুরু হচ্ছে ফেডারেশন কাপ ‘ইনশাআল্লাহ আমরা জিতমু’ : হামজা চৌধুরী লড়াই করে হারল বাংলাদেশ আবারও বিসিবি সভাপতি বুলবুল

For add

For add

গুরুত্বপূর্ণ কিছু লিংক

For add

For add

for Add