for Add
মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল : ২৬ নভেম্বর ২০২১, শুক্রবার, ১০:৪০:০০

টেষ্ট ক্রিকেট বাংলাদেশের জন্য সবসময়ই কঠিনতম লড়াইয়ের মধ্যে থাকতে হয়। ২০০০ সালের ১০ নভেম্বরে অভিষেক টেষ্ট খেলার পর থেকেই ধুকছে ১০ নাম্বার খেতাবপ্রাপ্ত দেশটি। সর্বশেষ আইসিসির টেষ্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ মাত্র এক পয়েন্ট অর্জন করেছিল। এর আগে ও পরের গল্পটা পুরোই হতাশার। কলকাতায় গোলাপী বলের দিনরাতের টেষ্টও খাবি খেয়েছে মোমনিুল হক সৌরভের দল। এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে দলের জন্য। প্রথম টেষ্টে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী ষ্টেডিয়ামে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল।
সাগরিকায় পাকিস্তানী পেস আক্রমণের মোকাবেলা করতেই কি অবস্থা হবে রাসেল ডোমিঙ্গোর শিষ্যদের সেটা নিয়েই যত দুশ্চিন্তা। মূলত টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচাতে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ বা টেস্ট বিশ্বকাপ আইসিসির নতুন সংযোজন। টেস্ট ক্রিকেটের মাহাত্ম্য ও প্রাচীন ক্রিকেটকে জাগিয়ে তুলতে এই ধরনের আয়োজন নিঃসন্দেহে আইসিসির সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
করোনার কারণে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসর খুব বেশি আলো ছড়ানোর পাশাপাশি আলোচনা তৈরি করতে পারেনি। সবশেষ নিউজিল্যান্ড ও ভারতের ফাইনাল নিয়েই ছিল যত উন্মাদনা। আর বাংলাদেশ এই প্রতিযোগিতায় রীতিমতো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেটেছে। সাত ম্যাচে অর্জন ছিল মাত্র একটি ড্র। বাকি ছয়টিতেই পরাজয়ের বেদনায় নীল হয়ে ফিরতে হয়েছে। ২০ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল তালিকার তলানিতে। টেস্ট ক্রিকেটের এই বিশাল আসরে আবার মাঠে নামার অপেক্ষায় মোমিনুল হক সৌরভের শিষ্যরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্ট দিয়ে আবার শুরু হচ্ছে নতুন এই লড়াই। যে লড়াই বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে পুরোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে। তবে এবারের লড়াইটা আরো কঠিন, আরো ঝাঁঝালো হবে মনে হচ্ছে।
এর সঙ্গে সাদা পোশাকে ভাল ও উন্নতি করার চ্যালেঞ্জ তো রয়েছেই। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় আসরে আগেরটির ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচ বাড়েনি। প্রথম আসরের মতো এবারও বাংলাদেশের ভাগ্যে খোলেনি ১২ ম্যাচে। যা অন্য সব দলের চেয়ে অনেক কম। প্রথম আসরে ১২ ম্যাচ থাকলেও করোনার কারণে বাংলাদেশ মাত্র ৭ ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছিল। এবার হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে মোট ৬টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। প্রতি সিরিজে মোট ম্যাচ রয়েছে ২টি করে। কিন্তু ঘরের মাঠে এবার বাংলাদেশ ৬টি ম্যাচই খেলবে এশিয়ার তিন দল পাকিস্ততান, ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। চট্টগ্রামের পর ঢাকাতে পাকিস্তানকে আতিথেয়তা দিয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা ও ভারত আগামী বছর বাংলাদেশ সফরে খেলতে আসবে।
শ্রীলঙ্কা আসবে ২০২২ সালের মে মাসে। ভারত আসবে নভেম্বর-ডিসেম্বরে। আর অ্যাওয়ে সিরিজ নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ। ফলে বিদেশের মাটিতে চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এবার দেশের মাটিতেও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে লাল সবুজ পতাকাধারীদের জন্য। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অনেক সময় বিদেশী দলগুলো মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে নতুন ও তরুণ খেলোয়াড়কে পাঠিয়ে থাকে। কিন্তু এবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে কেউই ছাড় যেমন দেয় না, থাকে বেশি সিরিয়াস হয়ে। এখানে প্রতিটি পয়েন্ট মহামূল্যবান হিসেবে ধরা হয়। পাকিস্তান যেমন এবার নিজেদের সেরা দল নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। ভারত, শ্রীলঙ্কাও যে একই কাজ করবে সেটা বলার অপেক্ষার রাখেনা। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের মূল অস্ত্র স্পিন দিয়ে আক্রমণ। বছরের পর বছর এমন রণকৌশলই অনুসরণ করে আসছে।
কিন্তু এশিয়ার তিন দলের বিরুদ্ধে চাইলেই মন্থর ও স্পিনস্বর্গ বানিয়ে ম্যাচ জয় যে সম্ভব নয় সেটা প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ এশিয়ার অন্য তিন দলেও সামর্থ্যবান স্পিনার রয়েছে। রয়েছে বিশ্বমানের লেগ স্পিনার। ফলে দেশের মাটিতেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর দেশের বাইরে বাংলাদেশের টেস্ট মানে বিভীষিকাময় এক অধ্যায়। বিরুদ্ধ কন্ডিশন, বিশ্বমানের বোলার ও নিজেদের নড়বড়ে আত্মবিশ্বাস মিলে সাদা পোশাকে দেশের বাইরে বাংলাদেশকে দুরূহ সময় কাটাতে হয়েছে এবং হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ তিন ফরম্যাট মিলে এরই মধ্যে ৩২টি ম্যাচ খেলেছে। এখন পর্যন্ত জেতেনি কোনো ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকাতেও একই ফল অব্যহত রয়েছে। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আশা দেখালেও মনে রাখতে হবে দেশের মাটিতেই তারা বাংলাদেশকে এই বছর ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে গিয়েছে।
যার ফলে দেশের বাইরেও এ ফরম্যাটে বাংলাদেশকে পুরোনো চ্যালেঞ্জেরই মুখোমুখি হতে হবে। এবারের পয়েন্ট বন্টনে এসেছে কিছুটা নতুনত্ব। সিরিজ ভিত্তিতে নয়, ম্যাচ প্রতি পয়েন্ট পদ্ধতি বন্টন করা হবে। প্রতিটা ম্যাচে জয়ী দল পাবে ১২ পয়েন্ট, ড্রর জন্য ৪ পয়েন্ট আর টাই হলে দুই দল পাবে ছয়টি করে পয়েন্ট। ¯েøা ওভার রেটে অভিযুক্ত হলেও প্রত্যেক ওভারের জন্য একটি করে পয়েন্ট কাটা যাবে দলগুলোর। সাদা পোশাকে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স সেই শুরু থেকেই ভঙ্গুর। তবুও নতুন দিনে নতুন লড়াইয়ে নতুন করে স্বপ্ন বোনা হয়। নতুন প্রত্যাশা, উদ্দীপনা, চ্যালেঞ্জ, আত্মবিশ্বাস, ভয় না পাওয়ার মন্ত্রে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। একটা আগের থেকেও কঠিন। তবে নতুন দিনের শ্লোগান তো হতেই পারে,‘নতুন করে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।’
Tags: পাকিস্তান-ক্রিকেট, বাংলাদেশ-ক্রিকেট, বাংলাদেশ-পাকিস্তান-সিরিজ
For add
For add
For add
For add
for Add