for Add
ওয়েবসাইট : ৩০ মার্চ ২০২১, মঙ্গলবার, ১১:৩৭:৪১

জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হয়েছে সোমবার। দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথমদিনই অনেক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। তুষার ইমরান পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। একই ম্যাচে রংপুরের স্পিনার মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ পেলেন ৬ উইকেট। আবার কক্সবাজারে সেঞ্চুরি পেয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যান পিনাক ঘোষ। পাশের মাঠেই টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করলেন সিলেটের ব্যাটসম্যান জাকির হাসান।
সেঞ্চুরি পেয়েছেন তুষার, মুকিদুলের ছয় উইকেট
জাতীয় লিগের আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে রানআউট হয়েছিলেন তুষার ইমরান। নার্ভাস নাইন্টিজে আউট হওয়ার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। তবে পরের ম্যাচেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন তিনি। রংপুর বিভাগের বিপক্ষে এদিন পৌঁছেছেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে।
সোমবার রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে প্রথম টায়ারের ম্যাচে তুষারের সেঞ্চুরিতে ভোর করে প্রথম ইনিংসে ২২১ রানে অলআউট হয় খুলনা। আর নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেটে ১০৩ রান তুলে দিন শেষ করেছে রংপুর। ফলে প্রথম দিন শেষে ১১৮ রানে পিছিয়ে আছে দলটি।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর তোপে পড়ে শুরুটা ভালো করতে পারেনি খুলনা। দলীয় ১৯ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। তবে চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে দলের হাল ধরেন তুষার। গড়েন ৭৪ রানের জুটি। এরপর অধিনায়ক ফিরে গেলে নাহিদুল ইসলামের সঙ্গে ৬৩ রানের আরও একটি জুটি গড়েন তুষার।
কিন্তু এ জুটি ভাঙতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে খুলনা। শেষ দিকেও তোপ দাগান মুকিদুল। অল্পতেই ছাঁটাই করেন লেজের ব্যাটসম্যানদের। ফলে ২২১ রানেই অলআউট হয়ে যায় দলটি।
তবে এক প্রান্তে সাবলীল ব্যাট চালাতে থাকেন তুষার। তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৩২তম সেঞ্চুরি। মুকিদুলের বলে আউট হওয়ার আগে করেন ১১৬ রান। ১৩৬ বলের ইনিংসটি ২১টি চার দিয়ে সাজান এ ব্যাটসম্যান। এছাড়া সোহান ৩১ ও নাহিদুল ২৯ রান করেন।
রংপুরের পক্ষে ৬৪ রানের খরচায় ৬টি উইকেট পান মুকিদুল। আরিফুল হক ও নবীন ইসলামের শিকার ২টি করে।
নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি রংপুরেরও। দলীয় ১২ রানেই ওপেনার নবীন ইসলামকে হারায় তারা। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে সোহরাওয়ার্দী শুভর সঙ্গে ৪০ রানের জুটিতে প্রাথমিক চাপ সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন আরেক ওপেনার জাহিদ জাভেদ। তবে ১১ রানের ব্যবধানে এ দুই ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরলে ফের চাপে পড়ে যায় দলটি। তবে চতুর্থ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৪০ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তানবির হায়দার ও নাসির হোসেন।
তানবির ২৯ ও নাসির ১৯ রানে অপরাজিত আছেন। জাহিদের ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান। খুলনার পক্ষে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন আব্দুল হালিম, মাসুম খান ও জিয়াউর রহমান।

পিনাকের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে চট্টগ্রাম
বয়স ভিত্তিক দলে দারুণ পারফরম্যান্স করতে পারলেও সিনিয়র দলে নিজেদের ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিলেন পিনাক ঘোষ। অবশ্য ইনজুরিই ছিল তার মূল বাঁধা। তবে সে সব দিন পেরিয়ে নিজের জাত চেনাতে সক্ষম হয়েছেন এ ওপেনার। কক্সবাজারে এদিন দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। তার সেঞ্চুরিতেই বড় সংগ্রহের পথে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ।
সোমবার কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মূল মাঠে দ্বিতীয় টায়ারের ম্যাচে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ২৮১ রান তুলে দিন শেষ করেছে চট্টগ্রাম বিভাগ।
তবে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি চট্টগ্রামের। দলীয় ২০ রানেই ফিরে যান ওপেনার সাদিকুর রহমান। তবে দ্বিতীয় উইকেটে মাহমুদুল হাসান জয়কে নিয়ে দলের হাল ধরেন পিনাক। গড়েন ৪৪ রানের জুটি। এরপর জয় আউট হলে অধিনায়ক মুমিনুল হকের সঙ্গেও ৪১ রানের জুটি গড়েন পিনাক। তবে চতুর্থ উইকেটে ইয়াসির আলী রাব্বির সঙ্গে ১০৯ রানের জুটিতে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়েন দেন এ ওপেনার। এরপর আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান শাহাদাত হোসেনের সঙ্গেও অবিচ্ছিন্ন ৬৭ রানের জুটিতে গড়েছেন এ ব্যাটসম্যান।
ওপেনিংয়ে নেমে সাড়া দিন ব্যাট করে ১৩৭ রান করে অপরাজিত রয়েছেন পিনাক। ২৫৬ বলের ইনিংসটি সাজাতে ১৩টি চার ২টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ইয়াসির আলী রাব্বি ১ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি মিস করেছেন। ১২৬ বলে করেন ৪৯ রান। ৩২ রানে অপরাজিত আছেন শাহাদাত। জাতীয় দলের অধিনায়ক মুমিনুলের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১১ রান।
ঢাকা মেট্রোপলিসের পক্ষে ৬৬ রানের খরচায় ২টি উইকেট নিয়েছেন আরাফাত সানি।

জাকিরের টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি
কি দারুণ ছন্দেই না আছেন সিলেট বিভাগের তরুণ তুর্কি জাকির হাসান। জাতীয় লিগে টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন এ ব্যাটসম্যান। প্রথম ম্যাচে তার সেঞ্চুরিতেই লড়াই করতে পেরেছিল সিলেট। তবে ম্যাচ বাঁচাতে পারেননি সতীর্থদের ব্যর্থতায়। এদিন অবশ্য তার বড় সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়েছে সিলেট।
সোমবার কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে প্রথম টায়ারের ম্যাচে জাকিরের সেঞ্চুরিতে প্রথম দিন শেষে ৬ উইকেটে ২৮২ রান তুলেছে এনামুল হক জুনিয়রের দল।
তবে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটাই ভালো হয়নি সিলেটের। খালি হাতে ফিরে যান ওপেনার শানাজ আহমেদ। দলীয় ১৩ রানে আরেক ওপেনার সায়েম আলমকেও হারায় তারা। তবে তৃতীয় উইকেটে অমিত হাসানকে নিয়ে ৩৭ রানের জুটিতে প্রাথমিক চাপ কাটানোর চেষ্টা করেছিলেন জাকির হাসান। কিন্তু দলীয় ৫০ রানে ফিরে যান আমিতও।
এরপর উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকের আলীকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজে নামেন জাকির হাসান। গড়েন ১৪৫ রানের দারুণ এক জুটি। জাকের আলী আউট হলে আব্দুল্লাহ আল গালিবকে নিয়ে ৫৯ রানের আরও একটি ভালো জুটি গড়েন জাকির হাসান। তাতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় দলটি।
তবে এ জুটি ভাঙতে দ্রুত রাহাতুল ফেরদৌসকেও হারায় সিলেট। গালিবের সঙ্গে এনামুল অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৫৯ রানের ইনিংস খেলেন জাকির হাসান। ২২৮ বলে ১৭টি চার ও ২টি ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান এ ব্যাটসম্যান। ডাবল সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান শুভাগত হোম। সুমন খানের তালুবন্দি করে তাকে সাজঘরে ফেরান এ স্পিনার।
এছাড়া জাকের আলী খেলেন ৬৭ রানের ইনিংস। ১৫৩ বলে ৭টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। গালিব ২৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
ঢাকার পক্ষে ৫৬ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নিয়েছেন শুভাগত। ২টি উইকেট পান সুমন।
Tags: এনসিএল, চার, ছক্কা, জাকির-হাসান, জাতীয়-ক্রিকেট-লিগ, তুষার-ইমরান, পিনাক-ঘোষ, বাংলাদেশ-ক্রিকেট, সেঞ্চুরি
For add
For add
For add
For add
for Add